mymandir

भारत का #1 धार्मिक सोशल नेटवर्क

বাংলা

মকর সংক্রান্তি ২০১৯ তারিখ ও সময়

পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি ভারতীয় সংস্কৃতির অন্যতম একটি উৎসব। যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন নামে পালিত হয়। সাধারণত ১৪ জানুয়ারি বা তার এক দিন আগে-পরে এই তিথি আসে। বিভিন্ন জায়গায় অঞ্চলে এই উত্‌সবের বৈশিষ্ট্য আলাদা, তার মেয়াদও আলাদা হয়ে থাকে। পশ্চিমবঙ্গে মকরসংক্রান্তি ‘পৌষসংক্রান্তি’ নামে পরিচিত। পৌষসংক্রান্তি মানেই বাঙালির কাছে পিঠে-পুলি উৎসব। মা-ঠাকুমাকে সময় ধুমধামের সঙ্গে পালন করা হতো এই উৎসব। সরুচাকলি, পাটিসাপটাসহ তৈরি করা হত নানা রকমের পিঠে-পুলি। এখন অবশ্য বাস্ততার যুগ, বাড়িতে হরেক রকম পিঠে তৈরি এখন অতীত। তবে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে আজও ঘরে ঘরে পিঠে-পুলি তৈরি হয়। বিভিন্ন জায়গায় এই সময় ঘুড়ি ওড়ানোর রেওয়াজও  রয়েছে।

    মকর সংক্রান্তির মাহাত্ম্য

রাশিচক্রের বিচারে এই তিথিটিতে সূর্য মকর রাশিতে (ক্যাপ্রিকর্ন) প্রবেশ করে। ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী ‘সংক্রান্তি’ একটি সংস্কৃত শব্দ, এর দ্বারা সূর্যের এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে প্রবেশ করাকে বোঝানো হয়ে থাকে। ১২টি রাশি অনুযায়ী এরকম সর্বমোট ১২টি সংক্রান্তি রয়েছে।এবছর এই তিথিটা পড়ছে ১৫ জানুয়ারি। এই তিথিতে বাংলা বছরের ‘অশুভ’ পৌষ মাসের অবসান হয়।  

 

পশ্চিমবঙ্গে পৌষ পার্বণ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মকর সংক্রান্তি বা পৌষসংক্রান্তি-তে মূলত নতুন ফসলের উৎসব ‘পৌষ পার্বণ’ উদযাপিত হয়। নতুন ধান, খেজুরের গুড় এবং পাটালি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পিঠে তৈরি করা হয়, যার জন্য প্রয়োজন হয় চালের গুঁড়া, নারিকেল, দুধ আর খেজুরের গুড়। মকরসংক্রান্তি নতুন ফসলের উৎসব ছাড়াও ভারতীয় সংস্কৃতিতে ‘উত্তরায়ণের সূচনা হিসেবে পরিচিত। একে অশুভ সময়ের শেষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বীরভূমের কেন্দুলী গ্রামে এই সময় শুরু হয় জয়দেবের মেলা হয়। ঐতিহ্যবাহী এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ বাউল গান। এই দিনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সাগরদ্বীপে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে কপিল মুনির আশ্রমকে কেন্দ্র করে পুণ্যস্নান ও বিরাট মেলা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীর সমাগম হয় এই মেলায়।

অনেক জায়গায় পালিত হয় আউনি বাউনি (বানানান্তরে আওনি বাওনি) বা আগলওয়া। পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে পালিত একটি শস্যোৎসব। এই উৎসব জমি থেকে পাকা ধান প্রথম ঘরে তোলা উপলক্ষে চাষীদের ঘরে পালন করা হয়ে থাকে। হেমন্তকালে আমন ধান ঘরে প্রথম তোলার প্রতীক হিসেবে কয়েকটি পাকা ধানের শিষ ঘরে এনে কিছু নির্দিষ্ট আচার অনুষ্ঠান পালন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে পৌষ সংক্রান্তির দিন দু-তিনটি ধানের শিষ বিনুনি করে ‘আউনি বাউনি’ তৈরি করা হয়। এই আউনি বাউনি ধানের গোলা, ঢেঁকি, বাক্স-পেটরা-তোরঙ্গ ইত্যাদির উপর এবং খড়ের চালে গুঁজে দেওয়া হয়। বছরের প্রথম ফসলকে অতিপবিত্র ও সৌভাগ্যদায়ক মনে করে একটি পবিত্র ঘটে সারা বছর ধরে সংরক্ষণ করা হয়। এই আচারটিকেই ‘আউনি বাউনি’ বলা হয়।

 মকর সংক্রান্তি – উৎসব এক নাম অনেক

গুজরাত থেকে অরুণাচল, পঞ্জাব থেকে তামিলনাড়ু, বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পালিত হয় মকর সংক্রান্তি। বিভিন্ন অঞ্চলে এই উত্‌সবের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য, তার মেয়াদও আলাদা। কোথাও কোথাও চার দিন ধরে চলে এই  উত্‌সব। কোথায় কি নাম পরিচিত মকর সংক্রান্তি ?তামিলনাড়ুতে পোঙ্গল, গুজরাতে উত্তরায়ণ, অসমে ভোগালি বিহু, পঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ ও জম্মুতে লোহ্রি, কর্নাটকে মকর সংক্রমণ, কাশ্মীরে শায়েন-ক্রাত। উত্তর ভারতের অন্যান্য অঞ্চল, ওডিশা, মহারাষ্ট্র, গোয়া, অন্ধ্র, তেলঙ্গানা এবং কেরলে মকর সংক্রান্তি নামটিই চলে, যদিও তার পাশাপাশি স্থানীয় নামেরও প্রচলন আছে। যেমন মধ্যপ্রদেশে সুকরাত বা বিহার, ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশের কোনও কোনও এলাকায় খিচড়ি পর্ব নামে পালিত হয়। অন্য দেশেও মকর সংক্রান্তি পালনের রেওয়াজ আছে, যেমন নেপালে এই সময়ে পালিত হয় মাঘে সংক্রান্তি, তাইল্যান্ডে সোংক্রান, কাম্বোডিয়ায় মোহা সোংক্রান, মায়ানমারে থিংইয়ান, লাওস-এ এর নাম হল পি মা লো।

কোথায় কীভাবে মকর সংক্রান্তি পালন করা হয়, আসুন জানা যাক। তামিলনাড়ুতে মহা ধুমধামে পোঙ্গল পালন করা হয়, পৌষ মাসের শেষ দিনে এর শুরু, চলে পরের মাসের তৃতীয় দিন অবধি। তেলুগু অঞ্চলেও এই উত্‌সব চার দিন ধরে চলে। যদিও অন্য বেশির ভাগ অঞ্চলেই তা এক বা দু’দিনের ব্যাপার। পঞ্জাবের লোহ্রির মতোই তামিলরা প্রথম দিনে কাঠকুটো জড়ো করে আগুন জ্বালান এবং সেই আগুনে পুরনো কাপড়চোপড় ও অন্যান্য জিনিসপত্র আহুতি দেন: জীর্ণ পুরাতনকে বিসর্জন দিয়ে নতুনের আবাহন। পরের দিন দুধ আর গুড় মিশিয়ে তার মধ্যে নতুন ‘ভাজা’ চাল এবং মুগডাল ফোটানো হয়, যতক্ষণ না সেই দুধ উথলে ওঠে। দুধ উথলে ওঠার জন্য এইদিন বাড়ির বউকে বকুনি খেতে হয় না, বরং তিনি অভিনন্দিত হন, কারণ দুধ ওথলানোকে শুভলক্ষণ বলে মানা করা হয়।

পঞ্জাব থেকে তামিলনাড়ু পর্যন্ত সব জায়গায় এই উত্‌সবের সময় গুড় এবং তিলের মিষ্টি থাকবেই থাকবে, কারণ আখ এবং তিলের ফসল এই মরসুমেই ঘরে ওঠে। কিন্তু কেরল বা পশ্চিমবঙ্গের মতো আর্দ্র জলবায়ুর এলাকাগুলিতে এই দুটি ফসলের কোনওটিই বিশেষ হয় না, তাই সেখানে অন্য অঞ্চলের তুলনায় সংক্রান্তির ধুমধাম কম। বাংলায় আখের গুড়ের জায়গায় খেজুর গুড়ের বিশেষ প্রচলন, এবং সংক্রান্তিতে তাই তিলের নাড়ু ছাড়াও পুলিপিঠে, পাটিসাপটার খুব কদর।

অসমেও এই সময় নতুন ধান ওঠে, তাই উপবাস, ভোজ এবং বহ্ন্যুত্‌সবের মধ্যে দিয়ে জমে ওঠে ভোগালি বিহু। পঞ্জাব থেকে বিহার পর্যন্ত গোটা উত্তর ভারতে তিল, গুড় এবং দুধের মিষ্টান্নের পাশাপাশি অত্যন্ত জনপ্রিয় হল চাল, ডাল এবং মরসুমি সবজি দিয়ে তৈরি খিচুড়ি। আবার পঞ্জাব ও মহারাষ্ট্রে আছে সুজির হালুয়া, আর তামিলনাড়ুর মতো কিছু রাজ্যে দুধ আর চালের পায়েস এবং মিষ্টি।

সংক্রান্তির সময় গোটা ভারতে, এমনকী বাংলা ও কেরলেও ‘গঙ্গাস্নান’-এর মহিমা অপার। ব্রাহ্মণ্যতন্ত্র সুবিধেজনক বিধানও দিয়েছে: কোনও একটা স্থানীয় নদীকে ‘গঙ্গা’ হিসেবে চালিয়ে নেওয়া যায়। বহু মানুষ এই বিশেষ দিনে পূণ্য স্নান করতে গঙ্গা সাগরে যান।

এই ভাবে মকর সংক্রান্তিতে বিভিন্ন অঞ্চলের রকমারি আচার-অনুষ্ঠান এসে মিশেছে এবং এটি একটি সর্বভারতীয় উত্‌সবে পরিণত হয়েছে। গুজরাত বা কর্নাটকে এই সময় ঘুড়ি ওড়ানোর উত্‌সবও চলে। কিছু কিছু অনুষ্ঠান তো অনেক শতাব্দী ধরে চলে আসছে বলেই মনে হয়, যেমন এই সময়েই ওডিশার ভুঁইয়া জনজাতির মানুষ এবং বাংলার পশ্চিম প্রান্তের মানুষ টুসু উত্‌সব পালন করেন। মণিপুরে অনেকে তাঁদের পরম ঈশ্বর লিনিং-থোউয়ের কাছে প্রার্থনা করেন, এমনকী সুদূর অরুণাচল প্রদেশে চিন সীমান্তের কাছে ব্রহ্মকুণ্ডে রামায়ণ, মহাভারত ও কালিকাপুরাণের সূত্র ধরে দেবতার আরাধনা করা হয়, এই দিনটিতে সেখানে হাজার হাজার মানুষ আসেন। উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় লোকনৃত্যের আসর বসে। এমনকী এখন সবরিমালার প্রসিদ্ধ হিন্দু মন্দিরে বিরাজিতা এক সময়ের বৌদ্ধ দেব শাস্তা এই দিন লক্ষ লক্ষ ভক্তের পুজো পান, সেই ভক্তেরা বিস্তর কৃচ্ছ্রসাধন করে তাঁর কাছে পৌঁছয়।

মকর সংক্রান্তির দিন কি কি করা উচিত নয়

মকর সংক্রান্তি বাঙালির একটি অতি প্রিয় পার্বন। নানা অনুষ্ঠান পালিত হলেও এই দিনে কিছু বিশেষ নিয়মকানুনের পালনের রীতি রয়েছে।

১. মকর সংক্রান্তির দিন যাত্রা করা উচিত নয়

বলা হয়, মকর সংক্রান্তির দিন দূর যাত্রা করা শুভ নয়। প্রয়োজনে কোথাও গেলেও কিন্তু নিজের বাড়িতে ফিরে আসা উচিত বলে মনে করা হয়।কথিত আছে প্রাচীনকালে এক মুনি নিজের বাড়ি থেকে ওই দিন যাত্রা শুরু করেন এবং তিনি আর কোনও দিন ফিরে আসেননি। তার পর থেকেই এইদিন কোথাও যাত্রা না করার প্রচলন।

২. বাড়ি-ঘর বিশেষ করে রান্না ঘর অপরিষ্কার রাখা উচিত নয়

মকর সংক্রান্তির দিন সাধারণত সূর্যদেবের পুজো করা হয়।তার আশীর্বাদে আমাদের সকল রকম রোগ ব্যাধি দূর হয়। তাই এই বিশেষ দিনে সকলেই নিজের ঘর বাড়ি বিশেষ করে রান্নাঘর ও রন্ধন দ্রব্যাদি পরিষ্কার করে,যাতে সমস্ত রকম অপরিশুদ্ধতা দূর হয়। ওই একটি দিন আসলে নিজের ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার করে সুস্থতা বজায় রাখার জন্যই এই নিয়মটি পালন করা হয় বলে মনে করা হয়।

৩. কাউকে খালি হাতে ফেরানো উচিত নয়

এই দিন কোনও  গরীব,দুঃখী বা ভিক্ষার্থী আসলে তাকে খালি হাতে ফেরাতে নেই।বলা হয়, সংসারের জন্য শুভ নয়।

 

মকর সংক্রান্তির দিন কি কি নিয়ম পালন করা উচিত

মকর সংক্রান্তি পালনের কিছু নিয়ম আছে, আসুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলি কি কি –

১. সূর্যদেবের পুজো

মকর সংক্রান্তির দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্নান করে ঘরে আলপনা দিয়ে কিন্তু সূর্যদেবের পুজো করার নিয়ম প্রচলিত। সূর্যদেবের আশীর্বাদে রোগ থেকে মুক্তি মেলে এবং ফসল ভালো হয়।

২. মিষ্টি মুখ

মকর সংক্রান্তি বাঙালির প্রিয় একটি উৎসব হয়ে ওঠার কারণ ওই দিন ভোজন প্রিয় বাঙালির রসনার তৃপ্তি ঘটে। ওই দিন গুড়,চাল,দুধ ইত্যাদি সহকারে নানা ধরনের উপাদেয় মিষ্টি,পিঠে, পায়েস ইত্যাদি বানানো হয় এবং খাওয়া হয়। কেউ বাড়িতে আসলে তাকে মিষ্টি মুখ করানো হয়।কথিত আছে এই বিশেষ দিনটিতে সূর্যদেব তার পুত্র শনি দেবতার প্রতি তার ক্ষোভ ভুলে যান এবং তার গৃহে সূর্যদেবের আগমন ঘটে। তাই এই দিনে সকলে মিলিত হয় এবং মিষ্টি মুখ করানোর মাধ্যমে মিষ্টি সম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার করে।

৩. ঘুড়ি ওড়ানো

মকর সংক্রান্তির দিনের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ হলো ঘুড়ি উৎসব।এ ই দিন কিন্তু প্রত্যেকটি বাড়ির ছাদে ছোট বড় সকল সদস্য মিলে ঘুড়ি ওড়াতে দেখা যায়। অনেক জায়গায় ঘুড়ি ওড়ানোর কম্পিটিশনও চলে।

মকর সংক্রান্তি একটি আনন্দের উৎসব। তাই এই উৎসবের খুশিতে মেতে ওঠেন সকলে।

 

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Bitnami