mymandir

भारत का #1 धार्मिक सोशल नेटवर्क

বাংলা

সংসারে সুখ ও সমৃদ্ধি আনতে গণেশ চতুর্থীতে কী করবেন জেনে নিন

 

গণেশ চতুর্থী প্রায় এসেই গেল। গণেশ উৎসবের তোরজোড়ও শুরু হয়েছে গেছে। ১০ দিনের এই উৎসব ধুমধামের সঙ্গে পালন করা হয় মহারাষ্ট্র, গোয়া, তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটকে।

এই উৎসবে যাঁর আরাধনায় মেতে ওঠে সাধারণ মানুষ তিনি হলেন সিদ্ধিদাতা গণেশ। সংস্কৃত শব্দ “গণ” অর্থাৎ “সর্বসাধারণ” এবং “ঈশ” কথার অর্থ হল “পরম পূজ্য”। দেবাদি দেব মহাদেব নাকি ছেলের নাম রেখেছিলেন “গণেশ”। যদিও গণেশ ঠাকুর নানা নামে পূজিত হন। এগুলি হল : “বিনায়ক”, “বিঘ্নরাজ” অর্থাৎ যা ‘বিঘ্নেশ’ নামেরও সমার্থক, “দ্বৈমাতুর” অর্থাৎ যাঁর দুইজন মাতা, “গণাধিপ” অর্থাৎ যা ‘গণপতি’ ও ‘গণেশ’ নামেরও সমার্থক, “একদন্ত” অর্থাৎ যাঁর একটি দাঁত, এখানে গণেশের হস্তীমুণ্ডের বাইরের দাঁতের কথা বলা হয়েছে, “হেরম্ব”, “লম্বোদর” অর্থাৎ যাঁর স্ফীত উদর এবং “গজানন” অর্থাৎ যাঁর হাতির মতো মাথা।

গণেশ চতুর্থী (Ganesh Chaturthi) :

সিদ্ধিদাতা গণেশের উন্মোৎসব রূপে পালিত হল হয় এই উৎসব। হিন্দু পঞ্জিকা মতে, ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থী তিথিতে গণেশ পুজো করা হয়। সাধারণত ২০ অগাস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই দিনটি পড়ে। দশদিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি হয় অনন্ত চতুর্দশীর দিন। ভাদ্রপদ শুক্লপক্ষ চতুর্থী মধ্যাহ্নব্যাপিনী পূর্বাবিদ্ধ – এই পূজার প্রশস্ত সময়।গণেশ উৎসব ২০১৮ (তারিখ)গণেশ চতুর্থী : ২৭ ভাদ্র, বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর,২০১৮)

গণেশ চতুর্থীর ইতিহাস (Ganesh Chaturthi Story) :

গণেশ ঠাকুর মহাদেব ও পার্বতীর সন্তান বলা হলেও আসলে কিন্তু তিনি হলেন পার্বতীর সৃষ্টি। মাঘ মাসের শুক্লাপক্ষের চতুর্থী তিথি দেবী পার্বতী সৃষ্টি করেছিলেন গণেশকে। শিবপুরাণ মতে, এর পিছনে এক আকর্ষণীয় গল্প রয়েছে। একদিন দেবী পার্বতী কৈলাসে স্নান করছিলেন। স্নানাগারের বাইরে তিনি নন্দীকে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন, যাতে তাঁর স্নানের সময় কেউ ভিতরে ঢুকতে না পারে। এই সময় শিব এসে ভিতরে প্রবেশ করতে চান। নন্দী শিবের বাহন। তাই প্রভুকে তিনি বাধা দিতে পারলেন না। পার্বতী রেগে গেলেন। তিনি ভাবলেন, নন্দী যেমন শিবের অনুগত, তেমনই তাঁর অনুগত কেউ় নেই। তখন তিনি গণেশকে সৃষ্টি করলেন এবং গণেশকে নিজের পুত্র রূপে ঘোষণা করলেন।এরপর থেকে পার্বতী স্নানাগারের বাইরে গণেশকে দাঁড় করিয়ে রাখতেন। একবার শিব এলেন। তিনি ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলেন। কিন্তু গণেশ তাঁকে বাধা দিলেন। শিব রেগে গিয়ে গণেশের মাথা কেটে তাঁকে হত্যা করলেন। একথা জানতে পেরে পার্বতীও রেগে গিয়ে সবকিছু ধ্বংস করে ফেলতে উদ্যোগী হলেন। তখন সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা তাঁর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করলেন। পার্বতী দুটি শর্ত দিলেন। প্রথমত, গণেশের প্রাণ ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সকল দেবতার পূজার আগে তাঁর পূজার বিধি প্রবর্তন করতে হবে।

শিব পার্বতীর শর্ত মেনে নিলেন। তিনি ব্রহ্মাকে উত্তর দিকে পাঠিয়ে বললেন, যে প্রাণীটিকে প্রথমে দেখতে পাওয়া যাবে, তারই মাথাটি কেটে আনবে। কিছুক্ষণ পরে ব্রহ্মা এক শক্তিশালী হাতির মাথা নিয়ে ফিরে এলেন। শিব সেই মাথাটি গণেশের দেহে স্থাপন করলেন। তারপর তাঁর মধ্যে প্রাণের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হল। শিব গণেশকে নিজ পুত্র হিসেবে ঘোষণা করলেন এবং পার্বতীর কথা মেনে, সকল দেবতার পুজোর আগে গণেশের পুজোর ব্যবস্থা করে দিলেন।তাই গণেশ ঠাকুরের পুজো ছাড়া কোনও পুজোই সম্পূর্ণ হয় না। যে কোনও পুজো বা শুভ কাজের আগে তাঁর পুজো করা হয়।

বাড়ির কোথায় রাখতেন গণেশ ঠাকুরের মূর্তি (Where To Place Ganesh Idol In House) :

প্রায় সকলের বাড়িতেই গণেশ ঠাকুরের মূর্তি থাকে। তবে সিদ্ধিদাতার আশীর্বাদ লাভ করলে হলে ঠাকুরের মূর্তি সঠিক জায়গায় রাখা জরুরি। বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিক বা একেবারে পশ্চিমর দিকে গণেশকে প্রতিষ্ঠা করে বাড়িতে সমৃদ্ধি লাভ হয়। বাস্তু শাস্ত্র মতে, এইভাবে গণেশ মূর্তি রাখলে সৌভাগ্যও নেমে আসবে আপনার জীবনে। উল্লেখ্য, বাড়িতে ঢুকেই যেখানে সবচেয়ে বেশি মানুষ গণেশমূর্তি দর্শন করতে পারবেন, সেইরকম জায়গায় রাখুন গণেশ মূর্তি। যে ঘরে গণেশ মূর্তি স্থাপন করবেন, দেখবেন যাতে ঠাকুরের শুঁড় যেন ঘরের দক্ষিণদিকে মুখ করে থাকে। বলা হয়, গণেশ ঠাকুরের শুঁড় দক্ষিণে থাকা মানে, মা গৌরীর প্রতি গণেশের ভালোবাসার প্রদর্শন করে। ঘরে গণেশঠাকুরের মূর্তি এমনভাবে রাখুন, যাতে ঠাকুরের পিঠ না দেখা যায়। বলা হয়, ভগবানের পিঠ দেখা গেলে সংসারে অশান্তি আসে। বাস্তুশাস্ত্র মতে, বাড়ির শোয়ার ঘরে গণেশ মূর্তি না রাখাই ভালো।

কোন রঙের গণেশ মূর্তি রাখবেন (Which colour Ganesha idol is good for home) :

বলা হয়, হলুদ রঙের গণেশমূর্তি পরিবারের পক্ষে সুখ সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। তবে বাস্তুশাস্ত্র মতে সাদা রঙের গণেশ মূর্তি রাখলে পরিবারে অর্থ আসে, বাড়ে বৈভব ও সম্পত্তি।

গণেশ পুজোর নিয়ম (Ganesh Puja vidhi) :

সিদ্ধি লাভের আশার গণেশ ঠাকুরের আরাধনা করা হয়। কীভাবে পুজো করলে সিদ্ধিলাভ করতে পারবেন জানুন।প্রয়োজনীয় সামগ্রী : ধূপ ও ধুনো, আরতি থালা, সুপুরি, পান পাতা, গণেশ ঠাকুরের জন্য নতুন পোশাক, চন্দন কাঠ, লাল ফুল, দূর্বা ঘাস, মোদক, নারকেল।পুজো পদ্ধতি :⦁ বাড়িতে গণেশ মূর্তি স্থাপনের আগে সারা বাড়ি পরিষ্কার করুন।⦁ স্নান সেরে মন্ত্রের মাধ্যমে মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর শুরু হবে পুজো। ঋক বেদ বা গণেশ সুক্তায় পাবেন প্রাণ প্রতিষ্ঠার মন্ত্র।⦁ প্রাণ প্রতিষ্ঠার পরই ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে শুরু করুন আরতি। এরপর ষোড়শপচারে গনেশ আরাধনা করুন। গণেশ বন্দনার ১৬টি রীতির নামই ষোড়শপচার।⦁ এরপর ২১টি দূর্বা ঘাস, ২১টি মোদক ও লাল ফুল গনেশের সামনে সাজিয়ে রাখুন। মূর্তির মাথায় আঁকুন লাল চন্দনের টিকা।⦁ এরপর গণেশ ঠাকুরের মূর্তির সামনে নারকেল ভেঙে অশুভ শক্তিকে দুর করুন।⦁ গণেশের ১০৮ নাম জপ করুন। মূর্তির সামনে করজোরে প্রার্থনা করুন পরিবারের সুখ, সমৃদ্ধি।⦁ গণেশ ঠাকুরকে মোতিচুরের লাড্ডু নিবেদন করতে ভুলবেন না। যদিও মোদক তাঁর ভীষণ প্রিয়। আপনি চাইলে বাড়িতেই নানা রকম মোদক রেসিপি তৈরি করে ঠাকুরকে নিবেদন করতে পারেন।⦁ গণেশ ঠাকুরের সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখুন। অন্তত তিনবার আরতি করুন সময় করে।⦁ আরতি করার সময় এই গান দিয়ে প্রার্থনা করুন -‘জয় গণেশ জয় গণেশজয় গণেশ দেবা।মাতা জাকি পার্বতী পিতা মহাদেবা।।একদন্ত দয়াবন্ত চার ভূজাধারী।মাথে সিঁন্দুর সোহে মুসে কী সবারী।।দীনন কি লাজ রাখো শম্ভু পুত্রয়ারী।মনোরথ কো পুরা করোজয় বলিহারী।’এইভাবে পুরোহিতের সাহায্য ছাড়াই বাড়িতে নিজেই গণেশ ঠাকুরের পুজো করতে পারেন।

গণেশ পূজা মন্ত্র (Ganesh Puja Mantra) :

একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদর গজাননম।বিঘ্নবিনাশকং দেবং হেরম্বং পনমাম্যহম।।অর্থাৎ, “যিনি একদন্ত, মহাকায়, লম্বোদর, গজানন এবং বিঘ্ননাশকারী সেই হেরম্বদেবকে আমি প্রণাম করি।ধ্যান মন্ত্র -ওঁ খর্বং স্থূলতনুং গজেন্দ্রবদনং লম্বোদরং সুন্দরংপ্রস্যন্দম্মদগন্ধলুব্ধ মধুপব্যালোলগন্ডস্থলম্ ।দন্তাঘাত বিদারিতারিরুধিরৈঃ সিন্দুরশোভাকরং ,বন্দেশৈল সুতাসুতং গণপতিং সিদ্ধিপ্রদং কামদম্ ।।মন্ত্রঃ – ওঁ গাং গণেশায় নমঃ ।অর্থাৎ, “যিনি খর্বাকৃতি, স্থূলশরীর, লম্বোদর, গজেন্দ্রবদন অথচ সুন্দর; বদন হইতে নিঃসৃত মদগন্ধে প্রলুব্ধ ভ্রমরসমূহের দ্বারা যাঁহার গণ্ডস্থল ব্যাকুলিত; যিনি দন্তাঘাতে শত্রুর দেহ বিদারিত করিয়া তাহার দন্ত দ্বারা নিজ দেহে সিন্দূরের শোভা ধারণ করিয়াছেন; সেই পার্বতীপুত্র সিদ্ধিদাতা গণপতিকে বন্দনা করি।

শুনুন জনপ্রিয় কিছু গান :

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Bitnami